বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর ও প্রাক্তন ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পতৌদির প্রেমের গল্প ছিল যেন আস্ত একটা হিন্দি চলচ্চিত্র। তাঁরা দুজনেই ষাটের দশকে ভিন ধর্মে বিয়ে করে একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দুজনের বিয়ে নিয়ে বিশেষ কিছু কথা বলেছেন তাঁদের ছোট মেয়ে সোহা আলি খান। সোহা জানান, বিয়ের আগে তাঁর মা শর্মিলা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর নামও পরিবর্তন করা হয়েছিল নিয়মমাফিক। সোহা আলি খান হটারফ্লাইকে বলেছেন যে তার মা মনসুর আলি খান পতৌদিকে বিয়ে করার জন্য ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। ইসলামে তাঁর নাম রাখা হয় ‘আয়েশা’। তবে মানুষ এখনও অভিনেত্রীকে তাঁর আসল নাম অর্থাৎ শর্মিলা ঠাকুর হিসাবেই চেনেন। এই নাম নিয়ে পরিবারে কিছুটা বিভ্রান্তি ছিল কারণ তাঁর মা ‘শর্মিলা’ নামে স্বাক্ষর করতেন এবং কখনও ‘আয়েশা’ নামে স্বাক্ষর করতেন।
শর্মিলা ঠাকুর নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতেন। সময়ের চেয়ে বরাবরই এগিয়ে শর্মিলা। তিনি নিজের শর্তে জীবনযাপন করতেন। ব্রাহ্ম বাড়ির মেয়ে তিনি, ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে কাজ করার পাশাপাশি বিকিনিতে ফটোশুট করতেও পিছপা হননি তিনি। তিনি ধর্মের বাইরে গিয়ে মনসুর আলি খানকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা সেই সময় একটি বড় বিষয় ছিল। মাত্র ২৪ বছর বয়সে, কেরিয়ারের মধ্যগগণেই বিয়ে করেছিলেন শর্মিলা। তোয়াক্কা করেননি সমাজের।

ম্ভ্রান্তশালী পরিবারের বউমা, সঙ্গে তিন সন্তানের জননী- সবকিছু সামলেও নিজের অভিনয় কেরিয়ার ম্লান হতে দেননি শর্মিলা। ১৯৬৪ সালে কাশ্মীর কি কলি ছবির সঙ্গে হিন্দি চলচ্চিত্র হাতেখড়ি তাঁর। ‘আরাধনা’, ‘চুকে চুপকে’, ‘অমর প্রেম’-এর কালজয়ী ছবির অংশ থেকেছেন শর্মিলা। ১৯৬৯ সালে মনসুর আলি খান পতৌদিকে বিয়ে করেন শর্মিলা। তাঁদের তিন সন্তান- সইফ, সাবা এবং সোহা।