গর্ভপাতের পর প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ

Spread the love

গর্ভপাতের কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ভ্রুণ। কিন্তু তার পরেও জরায়ুর মধ্যে আটকে ছিল সেটি। যার কারণে প্রবল রক্তক্ষরণ হচ্ছিল মায়ের। সম্প্রতি এমন এক পরিস্থিতিতেই বিরল পদ্ধতিতে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে একজন মহিলা রোগীকে বাঁচানো হল শহরের হাসপাতালে।

ঠিক কী হয়েছিল?

প্রায় ২২ সপ্তাহ গর্ভধারণের পর ভ্রুণটি নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে রোগিণীর গর্ভপাত হয়ে যায়। কিন্তু ভ্রুণটি মায়ের গর্ভের প্লাসেন্টার সঙ্গে আটকে ছিল তখনও। সাধারণত এই সময় ভ্রুণটি বেরিয়ে আসে জরায়ু থেকে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা হয়নি। চিকিৎসকদের কথায়, এ ক্ষেত্রে একটি বিরল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যাকে বলা হয় প্লাসেন্টা ইনক্রেটা। এই পরিস্থিতিতে প্লাসেন্টা জরায়ুর ভিতর ঢুকে যায় এবং সেটিকে সহজে সরানো যায় না। এই প্লাসেন্টা বার করার সময়ই শুরু হয়েছিল রক্তক্ষরণ।

ক্যাথিটার দিয়েই ফেরানো গেল প্রাণ

মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসক পার্থপ্রতিম সামুই এই সময় শুধু ক্যাথিটারের সাহায্যে বিরল পদ্ধতিতে প্রাণ ফেরান ওই রোগিণীর। প্রথমে বেলুনের মাধ্যমে ট্যাম্পোনেড পদ্ধতিতে তাঁকে বাঁচিয়ে রেখে জরায়ুর ধমনীর মুখগুলি বন্ধ করে দেন একে একে, ক্যাথিটারের সাহায্যে। এর ফলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। বেঁচে যান রোগিনী। চিকিৎসকের কথায়, ‘এই পদ্ধতির নাম বাইল্যাটেরাল ইউটেরাইন আর্টারি এম্বোলাইজেশন। এতে কোনও বড় অস্ত্রোপচার বা অ্যানাস্থেশিয়ার প্রয়োজন পড়েনি। শুধু ক্যাথিটার দিয়েই একটি বড় ফাঁড়া কাটিয়ে দেওয়া গিয়েছে।’

কী বললেন চিকিৎসক?

চিকিৎসকের কথায়, ‘প্লাসেন্টা এত গভীরে সাধারণত থাকে না। জরায়ুর ভিতরে ঢুকে যাওয়ায় প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। রক্তক্ষরণের জেরেই সমস্যা তৈরি হয়েছিল মূলত। তবে ক্যাথিটারের সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করার ফলে বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *